খুঁজুন
, ,

খুলনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও কর্মসূচির আওতায় রাস্তা নির্মাণ ও মন্দির নির্মাণ কাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, খুলনা
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
খুলনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও কর্মসূচির আওতায় রাস্তা নির্মাণ ও মন্দির নির্মাণ কাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোজ সরকারের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা- কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ঝরঝরিয়া গ্রামের রাস্তা নির্মাণ ও ঝরঝরিয়া উত্তরপাড়া মন্দিরের নির্মাণ কাজের অর্থ আত্মস্বাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৫টি দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত অভিযোগে উপজেলা ১৪নং মাগুরখালী ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা উল্লেখ করেন, তাদের গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। এখানে গত ১৫ বছর আগে ইটের সোলিং এর একটি রাস্তা হয়। কিন্তু প্রতি বছর রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রাস্তাটি একদম নষ্ট হয়ে গেছে। সে জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ঝরঝরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব হতে অমল সানার বাড়ি অভিমুখে মাটির রাস্তা পুনঃ নির্মাণ ও সোলিং করন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৮ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮শত টাকা এবং প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোজ সরকার। রাস্তাটিতে যেহেতু ইট বসানো ছিল। তাই রাস্তায় মাটি দেওয়ার পূর্বে, রাস্তার ইট গুলো তুলে রাশ করে রাখা হয়। রাস্তাটি স্কেভেটর মেশিন দ্বারা নির্মাণ কাজ করলেও সঠিকভাবে ড্রেসিং না করার কারণে নদীর পাশ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ধসে পড়েছে। অপরদিকে ইটের সোলিং এর কাজতো করেই নি। পূর্বের রাস্তার সেই ইট রাস্তার পাশে রাশ করে রাখা আছে। এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে মানুষের কাদা মাটিতে চলতে খুব কষ্ট হবে। সাধারণ মানুষ এখন ধারণা করছে আগের রাস্তা খারাপ হলেও, বৃষ্টির দিনে কাঁদা মাখা লাগতো না। আগের রাস্তাই ভালো ছিল। গ্রামবাসী মনে করেছিল মেম্বর ধীরেধীরে হয়তো রাস্তার ইটের সোলিং এর কাজ শেষ করবে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমরা জানতে পারলাম রাস্তার সব বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়ে গেছে। রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রামবাসী খুবই সংক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী মেম্বরের কাছে ইটের সোলিং এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে এবার মজা দেখাবো এবার সবাইকে কাঁদা দিয়ে হাটাবো।
এদিকে ঝরঝরিয়া উত্তরপাড়া মন্দিরে কয়েক বছর পূর্বে মন্দিরের বেজমেন্ট করা ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে টিআর থেকে বরাদ্দ নিয়ে মেম্বর মন্দিরে একটি রুম করে লিংটন পর্যন্ত নির্মাণ করেন। তারপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআর থেকে প্রথমে এই মন্দির নির্মাণ কাজ বাবদ ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় ধাপে ছাদ নির্মাণ করার জন্য ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই ধাপে প্রাপ্ত মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মন্দির কমিটির ব্যাংক হিসাব থেকে সব টাকা ব্যাংক হিসাবধারী আনন্দ মণ্ডলকে বুঝিয়ে উত্তোলন করে নেন। উল্লেখ্য আনন্দ মণ্ডল গ্রামের একজন সহজ সরল স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি। সে অত নিয়ম কানুন কিছু বোঝেনা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম বরাদ্দের বিষয়ে মেম্বর গ্রামবাসীকে জানান দেন যে, প্রথম বরাদ্দের মাত্র ৮০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। যেখান থেকে ৩০০০০ টাকা অফিস খরচ বাবদ দিতে হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা আমি ঝরঝরিয়া দক্ষিণপাড়া মন্দিরে দিয়েছি। আমি মেম্বর আমাকে তো সবদিক দেখতে হয়। বিষয়টি যাচাই করতে গেলে জানা যায়, ঝরঝরিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের শিক্ষক পবিত্র সরকার এর কাছে গ্রিল বাবদ ৮ হাজার টাকা দিয়েছে। গত অর্থবছরের বরাদ্দ এতদিন মেম্বরের হাতে ছিল। গত একমাস আগে গ্রামের মানুষ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে, মেম্বর ছাঁদ নির্মাণ বাবদ ৯০ হাজার টাকা কমিটির লোকজনের হাতে দেয়। উক্ত টাকা দিয়ে সিমেন্ট বালি, ইট ও পিকেট ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু ছাদের জন্য রড ও মিস্ত্রি খরচের কোন টাকা নেই। মোট কথা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৯০ হাজার টাকা মন্দিরের উদ্দেশ্যে দিয়েছে। বিষয়টি হলো ব্যাংক একাউন্টে আনন্দ মন্ডলের নামে, কিন্তু সে মেম্বরের প্ররোচনায় পড়ে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা তুলে মেম্বরের কাছে দিয়েছে। এখন তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে বলে আমি প্রথম বরাদ্দের বিষয়ে ব্যাপারে কিছু জানি না।
এব্যাপারে অভিযোগকারী সুভাষ চন্দ্র মন্ডল, দেবাশীষ মন্ডল, মৃণাল কান্তি মন্ডল বলেন, মেম্বর এভাবে রাস্তা ও মন্দিরের টাকা আত্মসাৎ করবে। এটা আমরা এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছি না। ইউপি সদস্য মনোজ সরকার বলেন, স্টিমেট অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, অ়ভিযোগ হয়েছে, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।