খুঁজুন
, ,

‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
‎দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চালু হলো ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা

‎বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের জরুরি চিকিৎসা সেবার সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎বাগেরহাটের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা আইসিইউ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ইউনিটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবল ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় এই সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আইসিইউ চালুর ফলে এখন থেকে মুমূর্ষু রোগীরা জেলা পর্যায়েই জীবন রক্ষাকারী বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন, যা এতদিন তাদের খুলনা বা ঢাকায় গিয়ে গ্রহণ করতে হতো। এই উদ্যোগটি বাগেরহাটবাসীর জন্য স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‎তবে আইসিইউ চালুর আনন্দ ছাপিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী এবং সচেতন মহলে হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, আইসিইউ সেবা কেবল শয্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় প্যাথলজি, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল। বর্তমানে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট রয়েছে, যা এই ইউনিটের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আইসিইউ পরিচালনা করার মতো পর্যাপ্ত জনবল এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়ে গেছে। রোগীদের অভিযোগ, আইসিইউ চালু হলেও সিটিস্ক্যান, সিসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি সেবাগুলো এখনো অধরা। ফলে সাধারণ রোগীরা একদিকে আইসিইউ সুবিধা পেলেও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য এখনো তাদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ জানিয়েছেন যে, পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের অন্যান্য যন্ত্রপাতির সংকট নিরসন করা হবে এবং আইসিইউ ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম হাসপাতালের সকল পর্যায়ের কর্মীদের রোগীদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কেবল আশ্বাস নয় বরং আইসিইউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ডায়ালাইসিস মেশিন ও সিটিস্ক্যান সুবিধাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিশেষায়িত সেবাগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে এবং প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়।

‎পরিশেষে বলা যায়, বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, তবে এর স্থায়িত্ব এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি। যদি জনবল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংকট দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে এই মহতী উদ্যোগটি কেবল লোক দেখানো সেবায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। পরিবহন ব্যয় ও সময় বাঁচিয়ে স্থানীয়রা যেন উন্নত চিকিৎসা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি একান্ত প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের সঠিক সমন্বয় ঘটলে বাগেরহাটবাসীর চিকিৎসা সেবায় যে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।