নিখোঁজ জামায়াত কর্মীর ম’রদেহ মিলল পাটক্ষেতে, বাঁধা ছিল হাত-পা
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বিলমানুষমারি গ্রামের নিখোঁজ যুবক আসাদুল ইসলামের (২৫) হাত-পা বাঁধা ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া দাখিল মাদরাসার সামনের মাঠে স্থানীয় কৃষকরা কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে তারা পুলিশ ও নিহতের পরিবারকে খবর দিলে কালুখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আসাদুল ইসলাম মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। জেলা জামায়াতে ইসলামীর দাবি, আসাদুল সংগঠনটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বাদ আসর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদুল নিখোঁজ হন। রাত ৮টার দিকে তিনি তার সৌদি প্রবাসী দুলাভাইকে মুঠোফোনে কল করে জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নিহতের ফুপাতো ভাই মো. হাফিজুল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মোল্লা জানান, আসাদুল অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিলেন। এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। কী কারণে তাকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো, তা তাদের বোধগম্য নয়। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন।
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, এটি অত্যন্ত নৃশংস ও দুঃখজনক ঘটনা। সূর্যদিয়া গ্রামের দাখিল মাদরাসার সামনে, ভাটিয়াপাড়া রেলপথ ও চন্দনা নদীর পাড়সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা এবং অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশা করছে।
এদিকে, রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আসাদুল কালুখালী জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গতকাল বিকেলে সোনাপুর হাটে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে তার দগ্ধ ও নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও শঙ্কার।”

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]