খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র বানাতে চাই- ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল

বশির আহম্মদ, মোল্লা,নরসিংদী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র বানাতে চাই- ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল

নরসিংদীর রায়পুরায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল মিছিল ও জনসভা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন,পৌরসভা ও বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল এর নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষের বিশাল সমাগম ঘটেছে।
বিশাল আন্দন মিছিলটি রায়পুরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত জনসভাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রায়পুরার গালর্স হাই স্কুলে জনসভাস্থলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভায় প্রধান অতিথি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা দেশনায়ক ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের পথে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশের রক্তিম সূর্যাস্তের মুখোমুখি—এক নতুন ভোরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। রায়পুরার আপামর দেশপ্রেমিক জনগণ তাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা রেখে আমাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার দুর্লভ সুযোগ দিয়েছেন। এই পবিত্র দায়িত্বের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখে বিনীতভাবে বলতে চাই—রায়পুরার চরাঞ্চলসহ সমগ্র বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে আমি যেকোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। আজকের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে মেধা ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মানবিক রাষ্ট্র বানাতে চাই। একজন প্রকৌশলী হিসেবে, দেশনায়ক তারেক রহমানের ‘স্মার্ট ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নে জাতীয় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গঠনে আমি আমার সর্বোচ্চ কারিগরি মেধা প্রয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মানুষের সাথে সরাসরি মেলবন্ধন আমাকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখের সাথে গভীরভাবে যুক্ত করেছে। রায়পুরার মতো ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অঞ্চলকে আধুনিক মডেল জনপদে রূপান্তরের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞা ও সঠিক পরিকল্পনার সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ করে দেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে হবে । মন্ত্রিত্ব কেবল কোনো পদ-পদবি বা ক্ষমতার অলংকার নয়; এটি ১৬ কোটি মানুষের আমানত এবং সেবা করার এক মহান সুযোগ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—স্বচ্ছতা ও সততা: প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটাতে নিজেকে তৈরি করতে সক্ষম আছি দেশ-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশ পরিচালানা কাজে সাহসি ভুমিকা রাখতে অনেক পরিকল্পনা গ্রহন করছি । পরিকল্পিত উন্নয়ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে বন্ধপরিকর আছি। দেশনায়কের দূরদর্শী রূপকল্প: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের তৃণমূলে পৌঁছে দিতে আমি দিনরাত কাজ করে যাবো এবং দূর্নীতি,অনিয়ম,সন্ত্রাস,মাদক সহ সকল ধরনের সন্ত্রাসী সহ অসাজিক কর্মকান্ড প্রতিহত করতে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি এই নতুন পথচলায় আমাকে জাতীয় মন্ত্রিসভায় দেশসেবার কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন, তবে আমার মেধা, অভিজ্ঞতা ও সততা দিয়ে রায়পুরাসহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে সারা দেশের মধ্যে অন্য রকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো শতভাগ আশাবাদী।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফাইজুর রহমান। সভায় বক্তারা বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়েও বক্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএন জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হযরত আলী ভূঁইয়া ও সাবেক সেক্রেটারি আব্দুর রহমান খোকন,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, পৌর বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস আলী মুন্সী, সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পলাশ,
জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ইফতেখার আহমেদ ভুইয়া ইতু জেলা বিএনপির সদস্য কাজী আসাদুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সদস্য সচিব নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া আলতাফ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আল আমিন ভুইয়া মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বাছেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইয়াকুব আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী আফরিনা আসাদ ও সেক্রেটারি আসমা আক্তার,রায়পুরা পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সোহেল, সদস্যসচিব সুমন নেওয়াজ, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক হান্নান মোল্লা ও সদস্য সচিব মইনুল সরকার,উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি হুরমুজ মোল্লা ও সদস্য সচিব শেখ আলমগীর হোসেন, উপজেলা মৎস্যজীবিদলের আহবায়ক ফিরোজ আল মুজাহিদ ও সদস্য সচিব শহীদুল ইসলাম, রায়পুরা তাতীদলের সভাপদি ডা: শহিদুল ইসলাম চান মিয়া ও সদস্য সচিব মো: বাদল মিয়া,নিলক্ষা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজগর মোল্লা,বাশগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ সরকার ছন্দু ও বিএনপি নেতা ডা: আওলাদ হোসেন, রায়পুরা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি জলিল মিয়া সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।