খুঁজুন
, ,

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল খেটেছি, এখন আওয়ামী লীগের দোসর অপবাদ

শেখ মোরশেদ আলম জিসান গাজীপুর সিটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল খেটেছি, এখন আওয়ামী লীগের দোসর অপবাদ

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদকে ‘ভুল, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুরের গাছা থানার শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হোসেন খান নাঈম। একই সঙ্গে ওই সংবাদে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে আবুল হাশেম নামের এক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁকে একাধিক চাঁদাবাজি মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

নাজমুল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট ২০২৫ তাঁর বাড়ির সামনে গেট বন্ধ করে বালু ফেলে রাখাকে কেন্দ্র করে আবুল হাশেমের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে তাঁর ব্যবহৃত গাড়ি বের করতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আবুল হাশেম তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাইকে আসামি করে গাছা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন নাজমুল হোসেন। তাঁর অভিযোগ, মামলা ও বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে তাঁকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের করা অভিযোগেরও প্রতিবাদ করেন নাজমুল হোসেন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের বাড়িঘর দখলকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নাজমুল হোসেন বলেন, ‘যে সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আমার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি। আমার বাবা পৈতৃক সূত্রে এবং তাঁর ফুফাতো বোনের কাছ থেকে খরিদ সূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক হন। এ সম্পত্তির খাজনা-খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে।’

তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর চাচা ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন এবং রিয়াজ উদ্দিন বাবুল তা ক্রয় করেন। এরপর সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান নাজমুল হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনের মাধ্যমে আমাকে মোকাবিলা করতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাকে বিএনপি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় আমাকে আওয়ামী লীগের লোক বা আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচয় করানোর চেষ্টা চলছে।’

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নাজমুল হোসেন বলেন, তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি একজন এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি যদি আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে থাকি, তাহলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?’

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেনের অভিযোগ, তাঁর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেয় করা এবং সামাজিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এ উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আদালতের নথি যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসত।’

নিজের বিরুদ্ধে মানহানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে নাজমুল হোসেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের যথাযথ যাচাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পত্তির দলিল, খাজনা-খারিজের নথি এবং পূর্বে প্রকাশিত সংবাদসহ বিভিন্ন নথি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপনের কথা জানান।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবুল হাশেম ও রিয়াজ উদ্দিন বাবুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।