খুঁজুন
, ,

‎বাগেরহাটে দখলদারদের আবদারে থমকে গেল দেলভাষানী খাল উচ্ছেদ: জনমনে ক্ষোভ

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
‎বাগেরহাটে দখলদারদের আবদারে থমকে গেল দেলভাষানী খাল উচ্ছেদ: জনমনে ক্ষোভ

বাগেরহাটের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে প্রভাবশালী মহলের অনুরোধে অভিযান স্থগিত করেছে প্রশাসন, যা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।..

‎বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ অভিযান ছাড়াই ফিরে আসতে হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বেলা ১১টায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের বাধার মুখে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। একপর্যায়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দখলদারদের পক্ষ থেকে খাল না কাটার জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়। সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের দোহাই দিয়ে অবৈধ দখলদাররা উচ্ছেদ না করার আবেদন জানালে, প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দখলদারদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা ও বাঁধ অপসারণের জন্য প্রশাসন যেখানে কঠোর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রভাবশালী মহলের উপস্থিতিতে এই নমনীয়তা জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‎খাল উদ্ধারে প্রশাসনের এমন পিছুটান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীরা সরকারি খাল দখল করে দীর্ঘ সময় ধরে মাছ চাষ করে আসছে এবং স্থানীয়দের চলাচলের পথও রুদ্ধ করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির সামনে দখলদারদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও হতাশা তৈরি করেছে। তারা জানান, খাল কাটার খবর শুনে এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও, শেষ মুহূর্তে কোনো কাজ না হওয়ায় তারা প্রতারিত বোধ করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দখলদারদের আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। এদিকে দখলদার সেলিম কাজী খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন, যা স্থানীয় পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

‎ঘটনাটির প্রেক্ষিতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, মূলত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত কারণে দখলদারদের প্রার্থনার প্রেক্ষিতে দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ এটিকে সরকারের চলমান উচ্ছেদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মাছ তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়ে মানবিক কারণেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের এমন ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি খাল দখল করে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনের এই দোদুল্যমান অবস্থান জনস্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

‎দেলভাষানী খাল উদ্ধারের এই অভিযান স্থগিতের ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য নির্ধারিত দিনে এসেও দখলদারদের সময় দেওয়ার এই সংস্কৃতি সরকারি খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের চলমান প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যদি দুই সপ্তাহ পর পুনরায় অভিযান পরিচালিত না হয়, তবে জনমনে প্রশাসনের ওপর আস্থা সংকটের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।