খুঁজুন
, ,

ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম ঢাকতে সংবাদের প্রতিবাদ, অনিয়ম ও ৬ মাস বেতন বন্ধ জেনেও নীরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

মোঃ মাইদুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম ঢাকতে সংবাদের প্রতিবাদ, অনিয়ম ও ৬ মাস বেতন বন্ধ জেনেও নীরব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়ম ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ এবং মামলা করার হুমকিকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশাসনিক ও আইনি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম আড়াল করতেই প্রকাশিত সংবাদকে “মিথ্যা ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম জেনেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, “সুপারের বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও দায়িত্ব ছাড়ছে না ভারপ্রাপ্ত সুপার, নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে ৬ মাস ধরে সকলের বেতন বন্ধ”—শিরোনামে তালাশ বিডিসহ একাধিক অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, তার বক্তব্য না নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত সুপার ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কোনো সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে হলে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা বা অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এককভাবে প্রতিবাদলিপি দেওয়া কিংবা মামলা করার হুমকি দেওয়া চাকরি বিধি ও শৃঙ্খলা নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা প্রশাসনের মতে, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা মামলা করার হুমকি দেওয়া হলে তা ‘Misconduct’ এবং ‘Conduct Unbecoming of an MPO Teacher’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে লিখিত সতর্কীকরণ, কারণ দর্শানোর নোটিশ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব বাতিল, এমপিও সাময়িক স্থগিত কিংবা গুরুতর হলে বরখাস্ত বা অপসারণ পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম প্রয়োজনীয় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সহ-সুপার পদে আবেদন করেন। এমপিওভুক্তির সময় কাগজপত্র যাচাইয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে তিনি সহ-সুপার পদের পরিবর্তে সহ-মৌলভী হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন শুরু করেন। এই নিয়োগ ও পদবী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিকবার তার বেতন স্থগিত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন বলেও জানা গেছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. মজিবর রহমানের বয়স সংক্রান্ত অনিয়মের কথাও উঠে আসে। তার অষ্টম শ্রেণির সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মসাল ১৯৬২ হওয়ায় ২০২২ সালেই চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এমপিও সিটে জন্মসাল ১৯৬৯ উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্ব পাওয়ার পর ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বয়স সংশোধনের প্রত্যয়ন দেন, যার ফলে প্রায় সাত বছর বয়স কমিয়ে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারের বক্তব্যসহ ভিডিও ফুটেজও প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।

সাংবাদিক মহলের দাবি, আলোচিত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রশাসনিক দপ্তর ও নথিপত্র যাচাই করে দলগতভাবে কাজ করা হয়েছে এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী ভারসাম্য বজায় রেখেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার বার্তা পাঠানো হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে এড়িয়ে যান। এছাড়া অফিসে গিয়ে তার নিকট পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ত আছেন এমন নানা বাহানায় কাটিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারী মজিবর রহমানের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি বিষয়টি জেনেও নীরব থেকেছেন এবং তার মাধ্যমে স্থগিত বেতন দিয়েছেন। এছাড়া ৬ মাস বেতন বন্ধ থাকলেও কোন ভূমিকা পালন করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সুপার সাঈদুর রহমান অপরাধ করেছে কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল দায়িত্ব নিয়ে একই পথে হেঁটেছে। একক ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা টানা ছয় মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।