রায়পুরের চার নারী হত্যাকাণ্ডে নতুন প্রশ্ন: একার পক্ষে কি সম্ভব ছিল এত বড় নৃশংসতা?
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চার নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক অন্তর মজুমদার গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কি আসলেই একজনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব ছিল? বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় মা শাহিনুর বেগমসহ তাঁর তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিশু শিফা আক্তার নিহত হন। অপরাধবিজ্ঞানের সাধারণ সূত্র এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেকের মনেই এখন জোরালো সন্দেহ দানা বাঁধছে যে, চারজন সবল মানুষকে একা একজন ব্যক্তির পক্ষে এভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা প্রায় অসম্ভব।
ফলে এই ঘটনার পেছনে একাধিক ব্যক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা বা সহযোগিতার বিষয়টি কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।সন্দেহের মূল কারণটি লুকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগীদের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধের সুযোগের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে বড় মেয়ে সায়মা আক্তার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারও ছিলেন সতেরো বছর বয়সী এক কিশোরী। দিনের আলোতে একটি ঘরের ভেতরে যখন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করা হয়, তখন প্রথম একজনের ওপর আঘাত আসার সাথে সাথেই বাকি তিনজনের চিৎকার করা, ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা সম্মিলিতভাবে ঘাতককে জাপটে ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্বাভাবিক সুযোগ ছিল। চারজন মানুষের কাউকেই ঘরের বাইরে পালানোর সুযোগ না দিয়ে বা প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো চিৎকার করার অবকাশ না দিয়ে একে একে সবাইকে নিখুঁতভাবে খুন করা একক কোনো মানুষের শক্তির সীমানা ছাড়িয়ে যায়। এই পারিপার্শ্বিকতাই ইঙ্গিত করছে যে, ঘরের দরজা আটকে ভুক্তভোগীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে কিংবা তাদের হাত-পা চেপে ধরে চিৎকার রোধ করতে ঘটনাস্থলে আরও একাধিক সহযোগী উপস্থিত থাকতে পারে।তাছাড়া, ঘাতক অন্তর মজুমদার পেশায় একজন সাধারণ ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন এবং তিনি নিহতদের পূর্বপরিচিত বহিরাগত ভাড়াটিয়া ছিলেন। চারজন নারীকে সম্পূর্ণ একা পেয়ে এই ধরণের দুঃসাহসিক ও নিখুঁত হামলা চালানোর পেছনে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্রের প্ররোচনা বা ব্লুপ্রিন্ট ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা যাওয়ায় তাঁর মুখ থেকে সরাসরি জবানবন্দি নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে, যা তদন্তের গতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এই একাধিক ঘাতকের তত্ত্বটি পুরোপুরি নাকচ করছে না।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]