শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ৯ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও কুশপুত্তলিকা দাহ
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক ৯ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) জুমার নামাজের পর উপজেলার ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আলেম-উলামা পরিষদের আয়োজনে পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে ফেরিওয়ালা ইসলাম উদ্দিন (৫৫) কসমেটিক্স ও নগদ অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে ঘটনা জানানোর পর শিশুটিকে প্রথমে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুর জবানবন্দির ভিত্তিতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্ষক ইসলাম উদ্দিনকে আটক করে নালিতাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করে। শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষক বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক দরবেশ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন ফাতেমা জান্নাত মহিলা মাদরাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা ফখরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, মুফতি মাজাহারুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা এ ধরনের নৃশংস অপরাধের দ্রুত ও কঠোর বিচারের দাবি জানান এবং ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হন। পরে অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয় এবং ধর্ষক ইসলাম উদ্দিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]