খুঁজুন
, ,

মোকামতলার নতুন ইউনিয়নের নাম নিয়ে তুমুল বিতর্ক, সংসদেও আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
মোকামতলার নতুন ইউনিয়নের নাম নিয়ে তুমুল বিতর্ক, সংসদেও আলোচনা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন এবং সেগুলোর নামকরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত গেজেটে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। তবে নতুন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে তিনটির নাম স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ‘মীরবাড়ি’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিল রয়েছে। একইভাবে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ফলে ইউনিয়নগুলোর নামকরণে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো সুপারিশ ও গণশুনানির ভিত্তিতেই নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

“এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আমাকে কিছুই বলেননি,” বলেন জেলা প্রশাসক।

কীভাবে এলো নামগুলো?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার এক সভায় বিএনপির এক নেতা নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দেন। সভায় তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন লিখিতভাবে প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠায়।

এর পর ১১ জুন ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন এবং ১৪ জুন ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের গেজেট জারি করা হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান জানান, নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব পাওয়ার পর তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশ জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। তবে নামগুলো কারা প্রস্তাব করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম তাঁর মনে নেই বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্য

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশ নামকরণ নিয়ে আপত্তির পরিবর্তে সমর্থনই জানিয়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমান বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর ছেলে কিংবা বাড়ির নামে ইউনিয়নের নাম হওয়ায় এলাকার মানুষ খুশি হয়েছেন। এতে দোষের কিছু নেই, বরং ভালো হয়েছে।”

নতুন ইউনিয়নগুলোর কাঠামো

গেজেট অনুযায়ী, নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আওতায় সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে সীমান্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এতে মানকৈর, ভবানীপুর, অভিরামপুর, খেরুয়াপাড়া, কিশোরীপুর, জগন্নাথপুর, আমঝুপি, জীবনপুর, কুকি কালিদাস ও কুকি জগন্নাথপুরসহ মোট ১১টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউনিয়নটির জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭।

অন্যদিকে দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে দিগন্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো হলো ভরিয়া (ভৈরা), মেঘাখর্দ্দ, আলমপুর, রহবল, সাওয়ালদহ, কৃষ্ণপুর, তালিবপুর ও বোয়ালমারী। ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত ইউনিয়নটির জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯।

শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অংশ নিয়ে মীরবাড়ি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এতে ফেনীগ্রাম, সৈয়দপুর, চন্দনপুর, দোপাড়া, তেয়াইল, গোরনা, ধামাহার, বাদলদীঘি, বেতগাড়ী, রামকান্দি, চকগোপাল, ডাবুর, চককানু, হরিপুর ও গোপীনাথপুরসহ ১৫টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউনিয়নটির জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪।

এ ছাড়া নতুন ইউনিয়ন গঠন ও পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের কারণে বিহার, রায়নগর, বুড়িগঞ্জ, কিচক ও আটমুল ইউনিয়নও পুনর্গঠন করা হয়েছে।

সংসদে বিতর্ক

নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিষয়টি উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী তাঁর এলাকার একটি ইউনিয়নের নাম মীরবাড়ি রেখেছেন। তাঁর দুই সন্তান সীমান্ত ও দিগন্তের নামেও দুটি ইউনিয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করছেন, তখন এমন ঘটনা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সমালোচনার জবাবে সংসদে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নগুলোর নাম তাঁর সন্তানদের নামে রাখা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর ইউনিয়নের একটি অংশ গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত’। অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলার সীমানা সংলগ্ন ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকা হওয়ায় ‘দিগন্ত’ নামকরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “অলৌকিকভাবে আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে। কিন্তু আমার সন্তানদের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। যদি ব্যক্তিগতভাবে নামকরণের ইচ্ছা থাকত, তাহলে ‘মীর সীমান্ত’ বা ‘মীর দিগন্ত’ নাম রাখার জন্য বলতাম।”

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যের সমর্থন জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “তাহলে কি সীমান্ত ব্যাংকও আমার? কিংবা সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনও আমার? গুলশানের দিগন্ত টাওয়ারও কি আমার?”

আইনে কী বলা আছে?

ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে কয়েকটি গ্রাম বা সংলগ্ন মৌজার সমন্বয়ে ওয়ার্ড এবং ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ঘোষণা করতে পারেন। নবগঠিত ইউনিয়নের নাম নির্ধারণের ক্ষমতাও জেলা প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত।

তবে আইনে কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ না করার বিধান রয়েছে। সেই কারণে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও প্রশাসনের দাবি, নামগুলো স্থানীয় সুপারিশ ও গণশুনানির ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবারের নামের সঙ্গে মিল

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলম ১২টি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এর মধ্যে রয়েছে ‘মীর সীমান্ত ফিলিং স্টেশন’ এবং ‘মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি’।

প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত লন্ডনে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে রাজনীতি ও পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

এদিকে গত ৮ জুন শাকরুল আলম সীমান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হলেও পরদিনই পদত্যাগ করেন।

সব মিলিয়ে, নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের ফল, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা এখন জাতীয় সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর এ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামের তিনটি নতুন ইউনিয়ন।

 

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।