খুঁজুন
, ,

আশুলিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দয়ালের ‘মাদক সাম্রাজ্য’, নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাং

মোঃ রবিউল ইসলাম সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দয়ালের ‘মাদক সাম্রাজ্য’, নিয়ন্ত্রণে কিশোর গ্যাং

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরনো গডফাদাররা পালালেও তাদের শূন্যস্থান পূরণে সময় লাগেনি। স্বেচ্ছাসেবক দলের পদবি ব্যবহার করে ঢাকার আশুলিয়ায় পুরো একটি মাদক সাম্রাজ্য ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মো. আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়াল। তিনি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং দক্ষিণ গাজীরচট আড়িয়ারা মোড় এলাকার মরহুম আহসান উল্লাহ ভাসানীর ছেলে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর চারালপাড়া ও নলীর পার এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় রিপন নামের এক মাদক কারবারি। তার মাদক সিন্ডিকেটের বাধা হয়ে দাঁড়ান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হৃদয় দয়াল। তবে সেই ‘বাধা’ স্থায়ী হয়নি বেশি দিন। জানা যায়, মোটা অঙ্কের ‘মাসিক মাসোহারা’র বিনিময়ে তারা হাত মেলান। কিছুদিন পর রিপন একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হলে তার সিন্ডিকেট ও মাদক স্পটগুলো জোরপূর্বক নিজের দখলে নেন হৃদয় দয়াল। নিজেকে এক শীর্ষ নেতার ভাগনে পরিচয় দিয়ে পুরো এলাকায় তিনি একক আধিপত্য কায়েম করেন। মাদক স্পটগুলো চালাতে এবং এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি মাসিক ও দৈনিক চুক্তিতে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাংকে নিজের ছত্রছায়ায় রাখেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা আরও জানান, নিজের এই অবৈধ রাজত্ব শক্ত করতে তিনি আঁতাত করেন এলাকার কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজা মোল্লার সঙ্গে। যেই রাজা মোল্লার সৎ মেয়ে ধর্ষণ মামলা, হত্যা মামলা এবং মাদক মামলাসহ অন্যান্য মামলায় বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমন ভয়ংকর দাগি অপরাধীদের নিয়ে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলার পর মাদক সাম্রাজ্যে দয়ালকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সম্প্রতি মাদক কারবারিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে, ঠিক তখনই নিজেকে বাঁচাতে নতুন চাল চালারও অভিযোগ উঠেছে দয়ালের বিরুদ্ধে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা সেই রিপনের ওপরই এখন পুরো মাদক ব্যবসার দায় চাপিয়ে নিজে আড়ালে থাকার অপচেষ্টা করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, অত্যন্ত নিখুঁত কৌশলে কমিশন ও মাসিক চুক্তিতে বিশ্বস্ত সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। নলীর পার মাঠে মাদক বিক্রির দায়িত্বে আছেন আরিফ, চারালপাড়া সংলগ্ন লাল পাহাড় মন্দির মাঠে আছেন লিমন এবং ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন এলাকার ডাবতলা মার্কেটের মাদক সিন্ডিকেট চালান ইমন নামের এক যুবক। যারা সবাই দয়ালের বিশ্বস্ত। এদের তিন গ্রুপে ১০ থেকে ১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য রয়েছে। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন মুন্না। দৈনিক এক থেকে দেড় কেজি গাঁজা বিক্রি করেন, যা থেকে আনুমানিক লাভ হয় ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। এছাড়াও দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা বিক্রি করে তার সিন্ডিকেট, যেখান থেকে তাদের লাভ হয় ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে মাসে গাঁজা বিক্রি থেকে লাভ হয় ১৫ লাখ থেকে ২১ লাখ টাকা এবং ইয়াবা থেকে লাভ হয় ৯ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

দৈনিক হাজিরায় মাদক বিক্রি করা দুলাল জানান, “আমি আগে তার মাল (মাদকদ্রব্য) বিক্রি করতাম। এখন করি না। আমি যেন তার মাল বিক্রি করি, এজন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে। আজকেও বারবার আমাকে হুমকি দিচ্ছে তার পক্ষে একটা ভিডিও করে দেওয়ার জন্য। বর্তমানে আমি তার ভয়ে এলাকার বাইরে আছি।

কী ধরনের ভিডিও চাচ্ছে? জানতে চাইলে দুলাল বলেন, তিনি একজন ভালো লোক, তার সাথে মাদক ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তার হয়ে মাদক ব্যবসা করতাম না-এ ধরনের একটি ভিডিও চাচ্ছে।

হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে রিকশাচালককে মাদক বহনের জন্য সরাসরি চাপ দিচ্ছেন স্বয়ং হৃদয় দয়াল। সেখানে ওই চালক অপরাধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আকুতি করে বলেন, “আমি ভাই এটার প্রতি থাকতে চাই না। কাজ কাজই, কর্ম কোনো সময় ছোট না। আপনারা বড় মানুষ রাজনীতি করবেন, আর আমি ছোট মানুষ।”

এ বিষয়ে কথা হয় রিপনের মা কুলসুম বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আগে মাদক ব্যবসা করতো, সামাজিকভাবে আমার মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে। তাই পোলারে আমি নিজে অ্যারেস্ট করাইছি। ঘরের দরজা কাটাইয়া ঘরের সব তছনছ কইরা ভাঙচুর করছি, দারোগাকে আইনা হ্যান্ডকাফ লাগাইয়া এলাকাবাসীর সামনে পুলিশে ধরাইছি। পরে ও (রিপন) বন্ডসই (মুচলেকা) দিছে মাদক বিক্রি করবে না। যদি আমার পোলার নামে কেউ মাদক বেচে, ধইরা সাথে সাথে চালান দিবেন। এখন বাবুর নেতৃত্বে মাদক বেচে রাজা মোল্লা, আরিফ, ইমন, লিমন। খোদ বাবুর বাসার সামনেই এখন মাদক বেচাকেনা হয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ বাইপাইল এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর পরই এলাকার ভেতরে হৃদয় দয়ালের বাহিনীর তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। মহল্লার প্রতিটা অলিগলিতে তার নির্দিষ্ট লোক থাকে মাদক বিক্রি করার জন্য। তাদেরকে দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা হাজিরা দেওয়া হয়। তার লোকদের মধ্যে কেউ দৈনিক হাজিরায় মাদক বিক্রি করতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।শুধু মাদকই নয়, এই ‘দয়াল’ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্রবাজি ও নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ।

সম্প্রতি চারালপাড়ার এক ব্যবসায়ীকে সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে মীমাংসার নামে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এর আগে প্রকাশ্যে এক নারীর ওপর হামলা এবং নবীনগর এলাকায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন এই হৃদয় দয়াল।

এতসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়ালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রতিবেদককে তার অফিসে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্ত দয়ালের সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমাদের দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিপূর্বেই সে বহিষ্কার হয়ে রয়েছে। সে আমাদের দলের কেউ না। সুতরাং এই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই।”

ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন করে আসা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের অতি দ্রুত আবারও আইনের আওতায় আনা হবে।’

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৬ মার্চ জাতীয় স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গেলে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমনের ওপর হামলা চালায় একটি গ্রুপ। সেই হামলার সাথে আব্দুল হালিম বাবু ওরফে হৃদয় দয়াল জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ (শুক্রবার) তার বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম সুমনের সমর্থকরা।

এরপর গত বছরের ২৩ এপ্রিল মোহাম্মদ আলী আকবর হোসেন নামে এক ইলেকট্রিক কনট্রাক্টরকে কৌশলে জঙ্গলে নিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াসহ আট হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা জেলা কমিটির সদস্য মো. হালিম বাবু ওরফে দয়ালের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হালিম বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সাথে দলের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এরপরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করে একটি নোটিশ জারি করা হয়।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।