খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে উদ্ধার সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব

আবির হোসেন সান‌ [ কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে উদ্ধার সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব

চট্টগ্রামে চেকপোস্টে তল্লাশি করে ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়া এক পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই পুলিশ সদস্যের নাম ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি একজন কনস্টেবল। ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় পুলিশি তল্লাশিতে ইয়াবার চালানটি উদ্ধার হয়েছে। তবে আটক হওয়া ওই পুলিশ সদস্য কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে নগরীর বাকলিয়া থানা পুলিশ। পরে চালানটি গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অভ্যন্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সূত্র জানায়, ৮ ডিসেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে নগরীর শাহ আমানত (নতুন ব্রিজ) সেতুর বাকলিয়া থানার অংশে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাসটি কক্সবাজার থেকে ওইদিন রাত ১০টায় ছেড়ে এসেছিল। পরে বাস থেকে ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ বক্সের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ ৯ বক্স ইয়াবা উদ্ধার করে। প্রতিটি বক্সে ১০ হাজার পিস করে ৯ বক্সে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। পরে ওই যুবক নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন এবং কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তারের গানম্যান বলে জানান। পরিচয় পেয়ে বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ইয়াবাগুলো রেখে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে বাকলিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন ও দায়িত্বরত এএসআই সাদ্দামসহ অন্যান্য ফোর্স উপস্থিত ছিল। প্রতিটি ইয়াবার দাম ২৫০ টাকা করে প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা। বিপুলসংখ্যক এই ইয়াবা ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন তারা।

কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সের আরআই ইন্সপেক্টর আশরাফ আলী বলেন, পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন ২০২২ সালের ১৩ জুলাই কক্সবাজার পুলিশ লাইনে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি গানম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বলা যায়, চাকরির শুরু থেকেই গানম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমতিয়াজ। তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, গত তিন মাসের মধ্যে প্রতি মাসেই কয়েকবার করে ঢাকায় গিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ১৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন। আবার ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারে চলে আসেন। পরের মাসে ১৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যান এবং ১৭ নভেম্বর চলে আসেন। পাঁচ দিন পর আবার ২২ নভেম্বর ঢাকায় যান এবং ২৪ নভেম্বর কক্সবাজারে ফিরে আসেন। সবশেষ ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার বাসে ওঠেন ইমতিয়াজ। তবে কর্ণফুলী ব্রিজের চেকপোস্টে আটক হন তিনি। এরপর মুক্ত হয়ে চলে যান গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। ইমতিয়াজ কুমিল্লার মুরাদনগর থানার বাখরনগর গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। তার বিপি নং-০৩২২২৪১১০৯। ইমতিয়াজের এক ব্যাচমেট বলেন, ‘কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে সায়েম নামে এক পুলিশ সদস্য গানম্যান হিসাবে ছিলেন। তার সঙ্গে ইমতিয়াজের সখ্য ছিল। সায়েমকে খাগড়াছড়িতে বদলি করার পর সেই স্থানে ইমতিয়াজ হোসেন আসেন। তবে সায়েম খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় সময় কক্সবাজার আসা-যাওয়া করতেন। সায়েমের মাধ্যমেই ইয়াবা কারবারের সঙ্গে ইমতিয়াজ জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে সায়েমসহ দুই ব্যক্তিকে এক বছর আগে ইয়াবাসহ আটক করে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপারের কাছে সোপর্দ করেছিল র‌্যাব।’

এদিকে বাকলিয়া থানার এক এসআই বলেন, ‘ইয়াবা উদ্ধারের পর এক পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া এবং ইয়াবাগুলো গায়েব করায় ওইদিন যারা দায়িত্বে ছিলেন, সবাই বিপাকে রয়েছেন। এছাড়া এলাকাটি চাক্তাই ফাঁড়ির আওতাধীন। কিন্তু চাক্তাই ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোবারক ঘটনাস্থলে ছিলেন না। অথচ তিনিও বিপাকে পড়েছেন। জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের একটি বিষয় শুনেছি। তবে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন, বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই আল আমিন ও এএসআই সাদ্দামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই ডিমার্টমেন্টাল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘ইমতিয়াজ হোসেন নামে আমার একজন গানম্যান রয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমি অবগত নই। কক্সবাজারে আমি নতুন জয়েন করেছি। তার বিষয়ে জেনে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।