খুঁজুন
, ,

জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ পোস্ট’ বিতর্ক: গ্রেপ্তারের পর সামনে এলো ভুয়া স্ক্রিনশটের অভিযোগ, নতুন প্রশ্নে সিয়াম মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ পোস্ট’ বিতর্ক: গ্রেপ্তারের পর সামনে এলো ভুয়া স্ক্রিনশটের অভিযোগ, নতুন প্রশ্নে সিয়াম মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কলেজছাত্র সাবিদুল ইসলাম সিয়ামকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ দাবি করেছে, সিয়ামের বিরুদ্ধে প্রচারিত স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রযুক্তিগত কারসাজির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গড়ে ওঠে।

সাবিদুল ইসলাম সিয়াম আখাউড়া উপজেলার আজমপুর গ্রামের শাহনেওয়াজ মিয়ার ছেলে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। গত রোববার রাতে জেলার সদর উপজেলার একটি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি আখাউড়া থানা হাজতে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ মিয়া এবং পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিফাতুল ইসলাম পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘সাবিদুল ইসলাম সিয়াম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

এরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ অবস্থায় ‘দ্য ডিসেন্ট’ একটি বিস্তারিত প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ব্রাউজারের ডেভেলপার টুলের ‘ইন্সপেক্ট এলিমেন্ট’ ফিচার ব্যবহার করে সিয়ামের নামে ভুয়া স্ক্রিনশট ও স্ক্রিন রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) পরিদর্শনে যান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সেদিন রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে তিনি ১৫টি ছবি সংযুক্ত করে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। পোস্টের একটি ছবিতে তাকে ডি-বক্সের ভেতর থেকে গোলবারের দিকে ফুটবলে শট নিতে দেখা যায়। ছবিটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশংসা কুড়ায়।

তিন দিন পর, ২০ জুন বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ‘Ryan Draper’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, ‘Sabidul Islam Siam’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসহ ওই ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

স্ক্রিনশটটি প্রকাশের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী সেটি শেয়ার করে অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানান। পরে একই অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়েও ওই কথিত পোস্টের অন্য কোনো স্ক্রিনশট, আর্কাইভ বা বিকল্প সংস্করণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, Ryan Draper-এর প্রকাশিত একটিমাত্র স্ক্রিনশটই পরবর্তীতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে।

রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্ট-চেকার সোহানুর রহমানও স্ক্রিনশটটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, এত আলোচিত ও বিতর্কিত কোনো পোস্টের একটিমাত্র স্ক্রিনশট পাওয়া অস্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট কিছু ভুয়া পরিচয়ের অ্যাকাউন্ট অতীতেও জাইমা রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়ানোর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে।

পরবর্তীতে Ryan Draper একটি স্ক্রিন রেকর্ড প্রকাশ করে দাবি করে যে তাদের কাছে ভিডিও প্রমাণও রয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ‘অরণ্য আবির’সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট সেই ভিডিও পুনরায় শেয়ার করে।

তবে দ্য ডিসেন্ট বলছে, ভিডিওটিই বরং জালিয়াতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কথিত পোস্টের ছবিটি ফেসবুক ফিডে দৃশ্যমান হলেও প্রোফাইলের ‘Photos’ বিভাগে নেই, যা প্রযুক্তিগতভাবে অস্বাভাবিক। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্থানীয়ভাবে HTML ও CSS কোড পরিবর্তন করে এমন দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সিয়াম আসলে অন্য একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যা পরে ‘Unavailable’ হয়ে যায়। অভিযোগ করা হয়েছে, সেই পোস্টের কোড সম্পাদনা করে জাইমা রহমানের ছবি ও কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন যুক্ত করে ভুয়া স্ক্রিনশট এবং ভিডিও তৈরি করা হয়।

দ্য ডিসেন্ট আরও জানায়, বেসিক কোডিং জানা যেকোনো ব্যক্তি ব্রাউজারের ডেভেলপার টুল ব্যবহার করে কোনো ওয়েবপেজ বা ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশন, ছবি, সময়, রিঅ্যাকশনসহ বিভিন্ন উপাদান স্থানীয়ভাবে পরিবর্তন করে স্ক্রিনশট বা স্ক্রিন রেকর্ড তৈরি করতে পারেন। বিষয়টি প্রদর্শনের জন্য তারা নিজেরাও Ryan Draper-এর একটি পোস্ট পরিবর্তন করে একই ধরনের স্ক্রিনশট ও ভিডিও তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিও বিশ্লেষণে আরও কিছু অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরা হয়। প্রথম প্রকাশিত স্ক্রিনশটে দুটি মন্তব্য ও তিন ধরনের রিঅ্যাকশন দেখা গেলেও ভিডিওতে কোনো মন্তব্য নেই এবং রিঅ্যাকশনের ধরনও ভিন্ন। দ্য ডিসেন্টের দাবি, ভিডিওতে দেখা রিঅ্যাকশনগুলো সিয়ামের ১৮ জুনের মূল পোস্টের সঙ্গে মিলে যায়।

অন্যদিকে ২১ জুন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে সিয়াম লিখেছিলেন, তার নামে ছড়িয়ে দেওয়া পোস্ট ও স্ক্রিনশট সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং এডিট করা। তিনি দাবি করেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে পোস্টটি সত্যিই তার আইডি থেকে করা হয়েছে, তবে তিনি দায় স্বীকার করবেন। তবে পরবর্তীতে ওই পোস্টটি আর তার প্রোফাইলে দেখা যায়নি।

দ্য ডিসেন্টের পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, সিয়াম অতীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হাসানকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন।

এদিকে ছাত্রদল নেত্রী তাওহীদা সুলতানা স্ক্রিনশটটি শেয়ার করে সিয়ামকে শিবির-সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মানসুরা আলমসহ আরও অনেকে একই স্ক্রিনশট নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

এ ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে জানান, সিয়ামকে পূর্বের একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এর আগে গত ২৩ এপ্রিল তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে ঘিরে এআই-নির্মিত ছবি ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সেটিও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। ওই সময় ডাকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামেও ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, LE O, Ryan Draper এবং Aronno Abir নামের অ্যাকাউন্টগুলো আওয়ামী লীগের সাইবার নেটওয়ার্ক ‘ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব পরিচয়-গোপন অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক সাইবার অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সম্প্রতি দ্য ডিসেন্ট, এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির এবং কয়েকজন সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে ভুয়া রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে Ryan Draper ও Aronno Abir নামের অ্যাকাউন্টগুলো এসব অ্যাকাউন্ট ও পেজ অপসারণের কৃতিত্ব দাবি করে পোস্টও দেয়।

সিয়ামের গ্রেপ্তার, ভুয়া স্ক্রিনশটের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার অপপ্রচারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।