খুঁজুন
, ,

তারেক রহমানের হাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেন জয়শঙ্কর।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের হাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেন জয়শঙ্কর।

গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। কালো পোশাকে শোকাহত পরিবেশে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। এসময় তাদের দুজনের মুখেই ছিল শোকের ছায়া।

এদিন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরা তারেক রহমানের হাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেন জয়শঙ্কর। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৈঠকের ছবিসহ এক পোস্টে জয়শঙ্কর এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন, যা বিএনপির সঙ্গে নয়াদিল্লির অতীত সম্পর্কের তুলনায় এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

 

তিনি লেখেন, ‘ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছি। আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছি যে, বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন ও আদর্শ আমাদের অংশীদারিত্বের উন্নয়নে পথ দেখাবে’।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ভারত প্রকাশ্যে বা গোপনে খালেদা জিয়ার ‘দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের’ বিরোধিতা করে আসছিল। বাংলাদেশের লাখ লাখ সমর্থকের কাছে তিনি ১৯৮০-র দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে ১৯৯১ সালে প্রথম ক্ষমতায় এলেও ভারত তাকে সর্বদা সন্দেহ ও অবিশ্বাসের চোখে দেখেছে। কয়েক দশক ধরে বিএনপি দেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে ছিল, যারা ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে।

অন্যদিকে, ভারত খালেদা জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ দল আওয়ামী লীগকে তাদের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করত। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে জয়শঙ্করের মন্তব্য এটাই স্পষ্ট করছে যে, ভারত এবং বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের তিক্ততা ভুলে একটি ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে।

 

তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আলজাজিরাকে বলেন, ঢাকায় তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠ দলের সঙ্গে জয়শঙ্করের ‘অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ’ বৈঠকটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি ভারত ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি উভয় পক্ষকেই এই পরিবর্তনের পথে হাঁটতে বাধ্য করেছে।

আলজাজিরার বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর, ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীর প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সমর্থন বাংলাদেশের মানুষের মনে কড়া ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি করেছে।

দেশ থেকে পালিয়ে হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন এবং গত বছর বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া সত্ত্বেও ভারত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেই দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।

এদিকে সম্প্রতি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে আবারও ভারতবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। অপরদিকে, এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতেও উত্তেজনা ছড়ায়। এতে উভয় দেশই সাময়িকভাবে তাদের হাইকমিশনে ভিসা পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।

 

এদিকে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না হাসিনার আওয়ামী লীগ। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, আওয়ামী লীগের ফেলে আসা উদার ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক স্থানটি দখল করার চেষ্টা করছে বিএনপি। দলটি জামায়াতের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছে- যারা ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গঠিত দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। ফলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে বিএনপি এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ভারত জামায়াতের রাজনীতি এবং তাদের পাকিস্তানপন্থি অবস্থানের সঙ্গে আপস করতে না পারলেও তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নয়াদিল্লির জন্য স্বস্তিদায়ক।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ঢাকায় ফিরে তারেক রহমান সমর্থকদের বলেন, তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চান, যেখানে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে।

এ নিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ঢাকায় সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আলজাজিরাকে বলেন, তারেক রহমানের কথা শুনে মনে হয় তিনি ‘নির্বাসনের বছরগুলোতে পরিণত হয়েছেন’।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের মতো বিএনপি নিজেও ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে কার্যত রাজনৈতিক নির্বাসনে ছিল। দলটির নেতাদের প্রথমে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরে হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার দেওয়া অসংখ্য মামলা ও গ্রেফতারে মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখে।

বিএনপি যখন শেষবার ক্ষমতায় ছিল (২০০১-২০০৬), তার সিংহভাগ সময় জুড়েই ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি ক্ষমতায় ছিল (১৯৯৮-২০০৪)। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী।

তখন বিজেপি শাসিত ভারত এবং বিএনপি শাসিত বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ, সীমান্ত সমস্যা, নদীবন্টন, অভিবাসন, সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য ছিল।

নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছিল, বাংলাদেশ তাদের ভূখণ্ডে ভারতবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও বিএনপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আঁতাত করছে বলে  অভিযোগ করেছিল ভারত। তবে ঢাকা বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মোদির বিজেপি মনোনীত ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই এই সম্পর্কের প্রেক্ষাপট ছিল পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শত্রুতার। বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ একটি ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিল এবং পাকিস্তানের খুব ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। আর সেই সরকারে তারেক রহমান ছিলেন একজন প্রধান চালিকাশক্তি এবং তার প্রভাব অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।’

 

তবে বর্তমানে এখন হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। নভেম্বরের শেষের দিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে মোদি দ্রুত তার আরোগ্য কামনা করেন। বিএনপিও সেই বার্তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মনে করেন, ‘তারেক রহমান বুঝতে পেরেছেন যে, একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তার ভারতের সমর্থন প্রয়োজন, অথবা অন্ততপক্ষে ভারতের বিরোধিতা তিনি চান না। এখন, আমাদের দেখতে হবে তার কর্মকাণ্ড সাম্প্রতিক বক্তেব্যের সঙ্গে মেলে কিনা।’

ভারতের ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমান এখন সব সঠিক কথাই বলছেন। তারেক রহমানের আপাত জনপ্রিয়তা- লন্ডন থেকে ফেরার পর ঢাকার রাস্তায় তাকে স্বাগত জানাতে যেভাবে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, তাতে বোঝা যায় তিনি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে পারেন।

অন্যান্য বিশ্লেষকরাও বলছেন, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট বা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির তুলনায় তারেক রহমানই ভবিষ্যতে নয়াদিল্লির জন্য ‘সবচেয়ে নিরাপদ ব্যক্তিত্ব’।

বাংলাদেশে আট বছর কাজ করা সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘ভারত ছাত্র বিপ্লবী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভারতীয় স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখে।’

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বিচ্ছেদ নয়াদিল্লিকে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

তবে ‘জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ছাড়াও অতীতের অনেক সম্পর্ক আছে বিএনপির, ভারতের জন্য, সেই জোটের স্মৃতি খুব কঠিন’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সানন্দে নয় বরং প্রয়োজনের তাগিদেই তারেক  রহমানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।

এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে জয়শঙ্করের শুধু ছবি তোলা বা করমর্দন, চিঠিপত্র এবং উষ্ণ অনুভূতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের জন্য যথেষ্ট নয়।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নতুন শুরুর জন্য ‘অতীতের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন।

যদিও ভারত জোর দিয়ে বারবার বলেছে, তাদের সম্পর্ক বাংলাদেশের সাথে কোনও দল বা নেতার সাথে নয়। তবে হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগের সাথেই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিল নয়াদিল্লি।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘হাসিনার ক্ষমতায় থাকাকালীন ঢাকা নয়াদিল্লির ‘পোষা কুকুর’-এ পরিণত হয়েছিল। তবে তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের মতো আঞ্চলিক শক্তির কাছ থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখবে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হলে তারেক রহমানের সরকার হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে। হাসিনাকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায় এখন নয়াদিল্লির ওপরেই বর্তায়।

এএন

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।