খুঁজুন
, ,

দুই লাখ টাকায় চুক্তি, সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল এসআইসহ পুলিশ সদস্যরা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো আদ্যোপান্ত !

আবির হোসেন সান (কক্সবাজার প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দুই লাখ টাকায় চুক্তি, সিএনজি চালককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল এসআইসহ পুলিশ সদস্যরা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো আদ্যোপান্ত !

সিএনজি চালককে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিল এসআই বদিউল’সহ দুই কনস্টেবল !

সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় ঘটনার বিস্তারিত।

দুই লাখ টাকায় কন্টাক্ট নেন এসআই বদিউল, ওসির গানম্যান কনস্টেবল তানভীর,কনস্টেবল মনির।

ওসির গান ম্যান হয়ে কীভাবে অভিযানে যান কনস্টেবল তানভির এনিয়েও রহস্য ঘেরা।

জোর করে অস্ত্র হাতে নিতে গালি দিতেও দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের।

জড়িত পুলিশ সদস্য’সহ সকলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি পরিবারের।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় একটি অস্ত্র মামলা নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যেটি ঈদগাঁও এলাকার মানুষের মধ্যে একটি অভাবনীয় এবং হতবাক হওয়ার মতো কান্ড ঘটিয়েছে । এমনকি বাংলা সিনেমার দৃশ্যমান কাহিনিকেও হার মানিয়েছে । গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার) সকাল সাতটার পরপরই ঈদগড়-বাইশারী যাওয়ার রাস্তার মাথা থেকে সিএনজি ভাড়া নিয়েছিল পাবলিক ছদ্মবেশে এক পুলিশ সদস্য। এক মিনিট গাড়ী চালাতে মাত্রই পানির বোতলের বাহানা দিয়ে সিএনজি থামিয়ে দেয় গাড়ীতে থাকা ঐ পুলিশ সদস্য । পরে ছদ্মবেশে থাকা পুলিশ নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ড্রাইভারকে পানির জন্য পাঠানো হয় একটি দোকানে। এরই ফাঁকে সিএনজির পিছনে অস্ত্র রেখে নামিয়ে পড়েন ঐ পুলিশ সদস্য। সিএনজির ড্রাইভার পানি নিয়ে আসতে মাত্রই পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে উৎপেতে থাকা পুলিশরা দৌড়ে এসে ড্রাইভার জাফর আলমকে ধরে ফেলে। পরে তাকে সিএনজিতে নিয়ে গিয়ে সিএনজির পিছনে ঢুকিয়ে দেয়া অস্ত্রটি বের করে জোরপূর্বক অস্ত্রটি তার দাবি করে ফাঁসানোর জন্য জোরজবরদস্তি করতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। বাধ্য হয়ে সিএনজি চালককে গালি দিয়ে দিয়ে অস্ত্রটি হাতে তুলে দিয়ে ছবি তুলতে দেখা যায়। সিএনজি চালক জাফর আলম এতটাই নিরুপায় যে, ঘটনাস্থলে সে একেবারেই হতবিহ্বল ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন ঘনাটি ঘটে ঈদগাঁও বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আনু মিয়া ফিলিং স্টেশনের একেবারেই সামনে । সিসিটিভি ফুটেজে যা স্পষ্ট দেখা যায় যে, সিএনজি থামানোর পর কী কী ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ঘটনাস্থলে যাদের নেতৃত্বে ফাঁসানো হয়েছিল এদের মধ্যে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম, ওসির গান ম্যান কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনিরকে। এই ঘটনায় স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এরা তিনজনই অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো কান্ডে জড়িত ছিল।

এমন ঘটনার অনুসন্ধান করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ। নিশ্চিত করা হয় ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রমাণ। এদিকে সিসিটিভি ফুটেজের সাথে মিল রেখে নিশ্চিত হতে জাফর আলমের পরিবারের সাথেও কথা বলা হয়। ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলিজারপাড়া ফু’দনির ছোঁয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যে, জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করেন জাফর আলম, তার স্ত্রী রাবেয়া ও মেয়ে লীজা মনি। পাশাপাশি বসবাস করেন রাবেয়ার বোন মিনাহার ও মেয়ে রদিয়া নুর। তাদের বক্তব্যের সাথে ঘটনার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো।

জাফর আলমের স্ত্রী রাবেয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়ে লীজা মনি এবং আমার বোনের মেয়ে রদিয়া নুর দুজনেই ঈদগাঁও আদর্শ শিক্ষা নিকেতনে পড়ালেখা করেন। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত পথে স্থানীয় বকাটে ছেলে শাহীন প্রকাশ বাপ্পি, ও রাসেল মিলে ইভটিজিং করত প্রতিনিয়ত। এমন ঘটনাটি বারবার হওয়ায় এবং মেয়েদের স্কুলে যেতে বাঁধা হওয়া দুই বকাটে যুবকের বিরুদ্ধে একটি ইভটিজিং মামলা দায়ের করি। এ ঘটনায় একজন গ্রেপ্তারও হয়। পরে স্থানীয়ভাবে অনেকেই আপোষ মিমাংসার কথা বলে বলে হুমকিও প্রদর্শন করে আসছিল ঐ যুবকদের পরিবার। কিন্তু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর কারণেই শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে পুলিশের সাথে দুই লাখ টাকা দিয়ে কন্টাক্টে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে জেলখানায় পাঠানো হয়। আমার স্বামী কখনোও এমন জগন্য কাজ করতে পারেনা। এলাকার সবাই জানে আমার স্বামী কেমন মানুষ। আমার স্বামী একদিন সিএনজি না চালালে আমরা উপবাস থাকার মতো অবস্থা। এমন সময় আমার স্বামীকে উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম, কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনির মিলে টাকা নিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। তবে বিষয়টি প্রথমে কোন ডকুমেন্টস না পাওয়ায় এই পুলিশদের বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব ছিলনা। এখন আমাদের এবং আপনাদের হাতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন আইনীভাবে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হয়েছি। আগে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করব। পরে এসআই বদিউল আলম’সহ দুই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করব।

একইভাবে ঈদগাঁও আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের ছষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থী লীজা মনি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করে বলেন যে, আমরা ইভটিজারদের কবলে পড়ে আছি দীর্ঘদিন ধরে। আমাদের স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে গেছে। শাহীন প্রকাশ বাপ্পি ও রাসেলের কারণে স্কুলে যেতে পারছিনা। তারা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ইভটিজিং করার দায়ে মামলাও হয়। মামলা হওয়ার পর থেকেই আমরা রাতে ঘরে পর্যন্ত বসবাস করতে পারছিনা। রাতে আমাদের টিনের বাড়িঘর সব কেটে রান্নার চুলা, মরিচ মসলা পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যায় তাদের নেতৃত্বে । রাতের বেলায় টিনের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার কারণে অন্য বাসায় থাকতে হয়। আমাদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তারা আমাদের প্রতি ক্ষোভে পুলিশের সাথে কন্টাক্ট করে আমার বাবা মতো একজন বিশ্বস্ত মানুষকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। যা এখন সব প্রমাণ হয়ে গেছে। এখন থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ কোথাও না দিতে কান্নাকাটি করা শুরু করে দিচ্ছে। যদিওবা এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দিলে আমাদের পুরো পরিবারকে আরও বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়েছে। আমরা আমার বাবার বিরুদ্ধে ফাঁসানো মামলা থেকে মুক্তি চাই। আমরা না খেয়ে না ঘুমিয়ে দিনযাপন করছি। আমরা এসআই বদিউল আলম, তানভীর ও মনিরের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ সব দেখা যাচ্ছে। কীভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমার মা বাদী হয়ে মামলা করবে।

এবিষয়ে স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, জাফর আলম একজন ভাড়াটিয়া সিএনজি ড্রাইভার। সে যেমন সৎ তেমন অমায়িক একজন মানুষ। স্থানীয় বকাটে যুবকদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ক্লেশ থেকেই পুলিশের সাথে চুক্তি করে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। এটি স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে এখন। এসব পুলিশদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। না হয় যে কাউকে তারা এইভাবে কন্টাক্টে ফাঁসিয়ে দিবে। আমরা চাই জড়িতদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি শাস্তির দাবিও। আর পাশাপাশি জাফর আলমের মুক্তির দাবিও করি। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এদিকে ঈদগাঁও থানায় গিয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্যামরার সামনে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এবং উপরের নিষেধ আছে বলেও দাবি করেন। তবে গোপন ক্যামরার সংবাদ প্রকাশ না করার যে আকুতি মিনতিসহ যাবতীয় সম্পুর্ন কথা উঠে আসে। তিনি বলেন যে, এটি সম্পুর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট। তবে এই মামলায় আরেকজন জড়িত থাকার কথা বললেও এজাহারের সাথে কোন মিল নাই। পাশাপাশি অজ্ঞাত কোন আসামির তালিকাও নাই। পুরো হযবরল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে নিউজ করে হয়রানি না করতেও জোর তদবির করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম’সহ অন্যান্যরা। একইভাবে ওসির গানম্যান কনস্টেবল তানভীর দাবি করেন যে,এটি ওসি ফরিদা ইয়াসমিন স্যারের মাধ্যমেই হয়েছে। এই কথা বলার সাথে সাথে মোবাইল কেটে দেন।

এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের (মুখপাত্র) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, এমন ঘটনা ন্যাক্কারজনক। কিছু কিছু পুলিশ সদস্য আমাদের মান ক্ষুন্ন করতে এমন কান্ড ঘটায়। যার কারণে আমাদের বদনাম হয়। আমরা এবিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।