প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বিতরণের অভিযোগ, স্বচ্ছলতার তালিকা বিএনপির তুলনায় জামায়াতের বেশি
পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অসহায়, দুস্থ ও অনগ্রসর মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ কার্যক্রমকে ঘিরে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মোট ১৩৩ জনের মাঝে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা নগদ বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ সহায়তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলের পক্ষ থেকে ৫০ জন করে মোট ১০০ জনের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। ফলে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দুই দলের পক্ষ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জন তালিকাভুক্ত হন। এছাড়া সংসদ সদস্যের জন্য বরাদ্দ ১৫ জনের মধ্যে উভয় পক্ষের জন্য অতিরিক্ত ৭ জন অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং বাকি ১৮ জন উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
তালিকা যাচাইয়ের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন উভয় পক্ষকে তালিকাভুক্তদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা সবাই অসহায় বলে নিশ্চিত করেন।
তবে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের অভিযোগ, তালিকা অনুযায়ী অর্থ প্রদানকালে কিছু স্বচ্ছল ও কর্মক্ষম ব্যক্তিকেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির তালিকায় কিছু যুবক ও কর্মঠ ব্যক্তি থাকলেও জামায়াতের তালিকায় তুলনামূলকভাবে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঢাকায় অবস্থানরত একজন ব্যক্তির নামেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে আপত্তির মুখে বাদ দেওয়া হয়।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী অর্থ বিতরণ করেন এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে নজর দেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল, সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মাহফুজার রহমান কিরণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অর্থ বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ অসহায় মানুষের জন্য ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, তারা প্রকৃত হতদরিদ্রদের মধ্যেই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে সহায়তা প্রাপ্ত উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]