খুঁজুন
, ,

বদলি ঠেকিয়ে সৈকতের রাজা বনে যাওয়া আপেল মাহমুদের কান্ড পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
বদলি ঠেকিয়ে সৈকতের রাজা বনে যাওয়া আপেল মাহমুদের কান্ড  পর্যটক সেবার সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য কক্সবাজারে গড়ে তোলা হয়েছিল ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক অবকাঠামো। কিন্তু সেই অবকাঠামোই এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ ভাড়া, মাসোহারা ও চাঁদাবাজির উৎসে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কটেজ জোনের পতিতালয় ও অবৈধ স্পা থেকে মাসোহারা আদায়সহ সরকারি অবকাঠামো বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এডিশনাল ডিআইজি পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ এমন অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার, অভিযোগ কেন্দ্র, পুলিশ বক্স এমনকি সরকারি জেট স্কিও অবৈধভাবে ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার হয়নি।

জানা গেছে, লাবণী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থাপিত একটি ওয়াচ টাওয়ার রেস্টুরেন্টে রূপান্তর করে ঈদগাহ উপজেলার বোরহান ও তায়েফ নামের দুই ভাইয়ের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হয় ৮ লাখ টাকা। রেস্টুরেন্টটির নাম দেওয়া হয় অর্ণব ক্যান্টিন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ ক্যান্টিন নামে চালানো শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও পর্যটকদের সেবার জন্য সুগন্ধা পয়েন্টে চালু করা হয় শহীদ কনস্টেবল পারভেজ নামে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র। তবে অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই অভিযোগ কেন্দ্রটি আজিজ নামের এক ব্যক্তির কাছে লকার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

একইভাবে কলাতলীতে পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থাপিত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প ডেক্স বক্স দোকান ও লকার হিসেবে ভাড়া দিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

লাবণী বীচ থেকে কলাতলী পর্যন্ত পুরো বীচ এলাকায় একটি রড কোম্পানির বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। অভিযোগ আছে, এসব বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীত পাশে কটেজ জোনে থাকা সাতটি পতিতালয় থেকে এক দালালের মাধ্যমে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা করে মাসোহারা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কটেজ জোনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব পতিতালয়ে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে থাকা ৫০টিরও বেশি অবৈধ স্পা থেকে অভিযানের ভয় দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে কয়েক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্পা সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযানের নামে চাপ সৃষ্টি করে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যবহারের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে দেওয়া চারটি জেট স্কিও ভাড়া দিয়ে অকেজো করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কোটি টাকার বীচ বাইক নষ্ট অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ কার্যালয়ের পার্কিংয়ে। আবার এসব জেট স্কি ও বীচ বাইকের ইঞ্জিন বিকল দেখিয়ে বাইরে ইঞ্জিন বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। যার ফলে সরকারি সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুগন্ধা পয়েন্টে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তারা দোকান বসাতে পারছেন না। তাদের দাবি, জয়নাল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিলে তবেই দোকান চালানোর সুযোগ মেলে। জয়নালের ইশারা পেলেই নির্দিষ্ট দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে। মাসিক টাকার বিনিময়ে আপেল মাহমুদ যুবদল নেতা জয়নালের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার অভিযোগও তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আপেল মাহমুদকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে এক উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সেই বদলি স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বান্দরবান বদলি করা হলেও তদবিরের মাধ্যমে সেখান থেকে আবার কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

দেশের প্রধান পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের সুনাম দেশ-বিদেশে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবী এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত কবে হবে, আর ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে গড়ে ওঠা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ আপেল মাহমুদ স্পষ্টভাবে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি পতিতালয়, স্পা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় করে, সে দায় ট্যুরিস্ট পুলিশ গ্রহণ করবে না। বরং কেউ যদি ট্যুরিস্ট পুলিশের নামে টাকা চাইতে আসে, তাহলে তাকে আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জুলফিকার স্টীল নামের যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিষ্ঠানকে তিনি চেনেন না এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ-এর কোনো ধরনের চুক্তিও নেই। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিলবোর্ড অপসারণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বক্স ও তথ্যকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যটকদের সুবিধার্থেই এসব স্থানে দুইজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।

ওয়াচ টাওয়ার ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বোরহান নিজ উদ্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করে ওয়াচ টাওয়ারটি সাজিয়ে-গুছিয়ে ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন। এই অর্থ ট্যুরিস্ট পুলিশ ফেরত দেবে। ওয়াচ টাওয়ারটি ভাড়া দেওয়া হয়নি বরং ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যান্টিন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই বোরহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা তিনি নিজে মোঃ আপেল মাহমুদ যদি কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবেন, তা তিনি বিনা দ্বিধায় মেনে নেবেন।

সোর্স” সকালের কক্সবাজার, রেজিঃ নং ৯৬৯/৬২

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।