খুঁজুন
, ,

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

আহনাফ হামিম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে: ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং বৈধ উপায়ে আয় করেন, তাদের প্রতি এটি এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে না; বরং দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের নীতি সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

আজ ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) ফরিদপুর জেলা পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চরম চাপে রয়েছে।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, সরকার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর নতুন ব্যয়ের বোঝা চাপিয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। এভাবে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশের মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত তিন মাসে সারাদেশে হত্যার শিকার হয়েছে ৯১৫ জন। এছাড়া অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, চুরি-ডাকাতি এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে সংসদে গৃহীত আলোচনা প্রস্তাব স্থগিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনগণের জীবন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হতে পারে না। যখন সীমান্তে রক্ত ঝরছে এবং একের পর এক পুশইনের ঘটনা ঘটছে, তখন এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছিল সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি দ্রুত জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষায় সরকার কার্যকর কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি এখন একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। দুই ঈদে শত শত মানুষের মৃত্যু এবং সারাবছরব্যাপী দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে যে পরিবহন খাতে কার্যকর সংস্কার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

ড. হামিদ আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পূর্বের অবস্থান ও বর্তমান বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি জনগণকে হতাশ করেছে। জনগণ প্রতিশ্রুত সংস্কারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়, অবস্থানের পরিবর্তন নয়।

তিনি জাতীয় স্বার্থ, সুশাসন, আইনের শাসন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান এবং দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা আমীর মাওলানা বদরুদ্দীন, জেলা নায়েবে আমীর মো: ইমতিয়াজ আহমেদ, আবু হারিচ মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, জেলা কর্মপরিষদ সদসস্যবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের জেলা ও শহর নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।