ময়মনসিংহে ভাড়াটিয়া হত্যা: বাসা ভাড়া বিরোধ ও মাকে মারধরের ঘটনার জেরে ৫ ভাই গ্রেপ্তার
বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং বাড়িওয়ালিকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডের ছত্রিশবাড়ি কলোনিতে ভাড়াটিয়া রাজিব আহমেদ রুবেলকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ কোতোয়ালি থানায় বাড়িওয়ালাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা দায়েরের পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও মূলহোতা জনিসহ তার চার সহোদরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তার চার সহোদরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল ভাড়া বাসার ভেতরে নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে বাড়িওয়ালি পারুল বেগম (৫০) ও তার সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে রুবেল বাসা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং জোরপূর্বক সেখানে অবস্থান করছিলেন।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, রোববার ভোর প্রায় ৬টার দিকে বাসা ভাড়া এবং মাদকের আসরকে কেন্দ্র করে পারুল বেগম, তার ছেলে জনি এবং রুবেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে পারুল বেগমকে মারধর করেন এবং তার শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মায়ের ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির খবর পেয়ে পারুল বেগমের সন্তানেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরই জেরে সকাল প্রায় ১০টার দিকে জনি ও তার চার সহোদর মিলে রুবেলকে অবরুদ্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে রোববার রাতেই জনিসহ চার ভাইকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে রুবেলকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]