রক্তদানের আড়ালে টাকা বাণিজ্য, লক্ষ্মীপুরে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক
লক্ষ্মীপুরে রক্তদাতা জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবেল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি ‘৬৪ জেলা ব্লাড ডোনেট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
শনিবার চন্দ্রগ্রঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে আহত এক রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে গিয়ে এ ঘটনার অভিযোগ ওঠে।
রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মান্দারী ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মনির ঘরের চাল থেকে পড়ে আহত হন। পরে তাকে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
এ সময় হাসপাতালের দেয়ালে টানানো একটি নম্বরে ফোন দেন রোগীর স্বজনেরা। কল রিসিভ করেন পাবেল। পরে তিনি রক্তদাতা ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা বলে যাতায়াত খরচের অজুহাতে টাকা দাবি করেন। তবে রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে চলে যান বলে জানা গেছে।
রোগীর বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমে এক হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে মোট ১২০০ টাকা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর ডোনারকে বিষয়টি না জানানোর কথাও বলেন পাবেল।
রক্তদাতা আরিফ বলেন, তিনি নিয়মিত রক্তদান করেন। টাকার কোনো বিষয় তার জানা ছিল না। এ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন শুনে তিনি স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে হাসপাতালে যান। পরে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, রক্তদানের মতো মানবিক কাজকে কেন্দ্র করে টাকা নেওয়া অনৈতিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাবেলের বিরুদ্ধে। এ ধরনের অভিযোগে কয়েকটি সংগঠন থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়াং স্টার সোসাইটি নামের একটি সংগঠনে থাকাকালে নারী হেনস্তা ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বহিষ্কার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর অ্যাসোসিয়েশন অব ব্লাড ডোনেটিং ক্লাবের সভাপতি ফারাজ রানা বলেন, পাবেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ শুনে আসছেন তারা। এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল মালিক সমিতিকেও বিষয়টি জানানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পাবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]