খুঁজুন
, ,

‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম আটক

‎ ‎বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
‎সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম আটক

সুন্দরবনের কয়রা এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে কুখ্যাত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম গুলিবিনিময়ের পর আহত অবস্থায় আটক হয়েছেন।

‎সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে চলমান ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ সময় ধরে সুন্দরবন কেন্দ্রিক অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ওই এলাকায় পৌঁছালে বনদস্যুদের সাথে তাদের তীব্র গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাহিনীটির কথিত প্রধান ৫০ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন এবং কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হন। শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম লক্ষ্য করা গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পরপরই তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব হেফাজতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সুন্দরবনের নিরাপত্তা বলয়কে চ্যালেঞ্জ করা একটি সশস্ত্র চক্রের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‎দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সশস্ত্র দলটির কর্মকাণ্ড স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বনজীবীদের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইলিয়াস বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর রবিউল ইসলাম অত্যন্ত চতুরতার সাথে দলটি পুনর্গঠন করেন। মূলত ইলিয়াস বাহিনীর সাবেক প্রধানের বোনের স্বামী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এই দলটিকে ‘দুলাভাই বাহিনী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বনদস্যুতার পাশাপাশি চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মাধ্যমে তারা সুন্দরবনের বিশাল এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। ভুক্তভোগী স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিতভাবে সাধারণ বনজীবীদের ওপর নির্যাতন চালাত এবং মুক্তিপণের বিনিময়ে জিম্মি করে রাখত। তাদের দীর্ঘদিনের এই অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। রবিউল ইসলামের আটকের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইলেও, বাহিনীর অন্যান্য সদস্য এবং তাদের গোপন আস্তানার বিষয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

‎এদিকে এই অভিযানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্যের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, সুন্দরবনের ভেতরে গুলিবিনিময় ও দস্যু আটকের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন, তবে অভিযানটি কোস্ট গার্ডের একক উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় বিস্তারিত নথি বা সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো থানায় পৌঁছায়নি। একইভাবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযানে ঠিক কতজন সদস্য অংশ নিয়েছিল, দস্যুদের কাছ থেকে কোনো ভারী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না, অথবা গুলিবিনিময়ে অন্য কোনো দস্যু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। প্রশাসনিক এই সমন্বয়হীনতা এবং তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে প্রতিটি অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

‎রবিউল ইসলামের আটকের ঘটনা সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, বনদস্যুতা সম্পূর্ণ নির্মূলে প্রশাসনিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সুন্দরবনের মতো একটি স্পর্শকাতর ও বিশাল ভৌগোলিক এলাকায় স্বল্প সংখ্যক টহল দলের পক্ষে সবসময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা প্রায়ই দস্যু গোষ্ঠীগুলোকে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেয়। রবিউলের মতো অপরাধীরা বারবার বাহিনী পুনর্গঠন করে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, তা বন্ধ করতে হলে কেবল মাঠ পর্যায়ের অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের আয়ের উৎস ও মদদদাতাদের শিকড় উপড়ে ফেলা জরুরি। এই ঘটনার চূড়ান্ত প্রভাব হিসেবে সুন্দরবন কেন্দ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সমন্বিত ও নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী চক্র নতুন করে বনজীবীদের ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে না পারে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।