খুঁজুন
, ,

সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের লোভের মরন ফাঁদে বাঘ

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের লোভের মরন ফাঁদে বাঘ

সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ ধরতে চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদ বাঘের জন্যে মরন ফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাঘ গননায় কয়েক কোটি টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সংরক্ষণে উদাসিনতায় ভাবিয়ে তুলছে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের।

‎সম্প্রতি হরিণের ফাঁদে আটকে পড়া আহত একটি বাঘ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এর আগে ২০১২ সালে এ রকম ফাঁদে আটকে পা হারিয়েছিল অপর একটি বাঘ। ২০১৪ সালে ফাঁদ ছিঁড়ে বের হয়ে আসা আরেকটি বাঘ পরে মারা গিয়েছিল।

‎বনের অভ্যান্তরে হরিণ ধরতে চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদ বাঘের জন্য নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
‎৪ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের মোংলা উপজেলার শরকির খালসংলগ্ন সুন্দরবনের অংশে হরিণ শিকারে পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে একটি বাঘ।  আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাঘটি বন বিভাগের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকলেও এরকম কত বাঘের জীবনের গল্প ইতিহাস হয়ে গেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।

‎সুন্দরবনে হরিণ শিকারে পাতা হচ্ছে চার ধরনের ফাঁদ,
‎বন্য প্রাণিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরিণ শিকারে বাঘের বিপদ বাড়ছে দুই দিক থেকে। প্রথমত, এতে বাঘের জন্য প্রয়োজনীয় শিকারের প্রাপ্যতা কমছে। অর্থাৎ যত হরিণ থাকা দরকার, তা কমছে। অন্যদিকে এসব ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘের অঙ্গহানিসহ মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।২০২৪ সালে বন বিভাগের করা সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ছিল ১২৫।

‎বাঘ সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা ‘টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’-এ বলা হয়েছে, একটি এলাকায় বাঘের সংখ্যা কেমন হবে, সেটি নির্ভর করে ওই এলাকায় হরিণের প্রাপ্যতা কেমন তার ওপর। স্বাভাবিক খিপ্রতায় হরিণ শিকার করতে একটি বাঘের বিপরীতে কমপক্ষে ৫০০ হরিণ থাকতে হয়। সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার চিত্রা হরিণ। এ ছাড়া আছে বন্য শূকর ও মায়া হরিণ।

‎ছিটকা ফাঁদ হচ্ছে বৃত্তাকারে পাতা ফাঁদ; এগুলো বসানো হয় একটি একটি করে। মালা ফাঁদ হচ্ছে এক গাছ থেকে রশি টেনে নিয়ে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অন্য একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। এরপর ওই রশিতে পাশাপাশি মালার মতো অনেকগুলো ফাঁদ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। রশি দিয়ে বানানো গলা ও হাঁটা ফাঁদ হলো ভূমি থেকে অল্প উঁচুতে পাতা ফাঁদ। গলা ফাঁদে হরিণের গলা আটকে যায় আর হাঁটা ফাঁদে আটকায় পা।

‎বন বিভাগ বলছে, হরিণ শিকারে চার ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করছে চোরা শিকারিরা—মালা ফাঁদ, ছিটকা ফাঁদ, হাঁটা ফাঁদ ও গলা ফাঁদ। সবচেয়ে বেশি পাতা হচ্ছে মালা ফাঁদ। নাইলনের রশি দিয়ে বনের ভেতরে এসব ফাঁদ পাতা হচ্ছে। ৪ জানুয়ারি উদ্ধার করা বাঘটি আটকা পড়েছিল ছিটকা ফাঁদে।
‎বন বিভাগের তথ্য বলছে, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের অধীন থাকা শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে গত আট মাসে (গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর) ৬১ হাজার ১০ ফুট মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিটকা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে ৩৮০টি, হাঁটা ফাঁদ ২ হাজারটি ও গলা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে ২০ ফুট।
‎পশ্চিম সুন্দরবন  বিভাগ জানিয়েছে, গত দুই বছরে তারা উদ্ধার করেছে ১ হাজার ২০০ ফুট মালা ফাঁদ এবং ১ হাজার ২০০ ফুট গলা ফাঁদ। হাঁটা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৪৮টি।

‎বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে,প্রতি সপ্তাহে একটি বাঘের জন্য ৫০ বা ৬০ কেজি ওজনের একটি হরিণ প্রয়োজন হয়; কিন্তু এখন যে হারে হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতা হচ্ছে।চরম খাদ্য সংকটে রয়েলবেঙ্গল টাইগার।চলে আসছে লোকালয়ে।
‎সুন্দরবনের এ দুই বিভাগে গত দুই বছরে শিকারিদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৪৮ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে।

‎ফাঁদ ও মাংস উদ্ধারের এসব ঘটনায় ৬৯ জনকে আসামি করে ২২টি মামলা করেছে পূর্ব বন বিভাগ। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬২ জনকে। অন্যদিকে পশ্চিম বন বিভাগ মামলা করেছে ৫০টি। আসামি করা হয়েছে ১৩০ জনকে। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ জন।

‎সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে সবচেয়ে বেশি ফাঁদ পাতা হয় খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারি, জোংরা, মরা পশুর, কোকিলমনি ও কচিখালি এলাকায়। কচিখালি ও কোকিলমনিতে পাথরঘাটা থেকে আসা লোকজন বলেশ্বর নদী পার হয়ে বনে ঢুকে এসব ফাঁদ পাতে।

‎সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ফাঁদ পাতা হয় কাশিয়াদি এলাকায়। এরপর কালাবাগী, বানিয়াখালী, নীলকমলে ফাঁদ পাতার হার বেশি।

‎চোরা শিকারিদের সম্পর্কে জানতে চাইলে বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা বলেন, সুন্দরবন এলাকার অনেকের পেশাই হলো হরিণের মাংস বিক্রি করা। বিশেষ করে মোংলা,ঢাংমারি, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিশ্বাসপাড়া, দরদুয়ানি, গ্যাংপাড়া এবং শরণখোলা এলাকার অনেক মানুষ সুন্দরবনে যুগ যুগ ধরে হরিণ শিকার করে থাকে।

‎বন কর্মকর্তারা জানান, টহল বাড়ানো হয়েছে, তাই ফাঁদ উদ্ধারও হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। অনেক সময় ফাঁদে আটকা পড়া হরিণ উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়। তিনি জানান, তাঁদের দুটি স্মার্ট প্যাট্রল টিম আছে। মাসে দুটি টহল হয়। একবার টহলে গেলে টানা দুই সপ্তাহ থাকতে হয়।

‎ফাঁদ পাতার সময় হাতেনাতে চোরা শিকারিদের ধরার সংখ্যা পূর্ব বন বিভাগে বেশি।

‎খাদ্যশৃঙ্খলে বাঘের জন্য হরিণ খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, হরিণ রক্ষায় তাঁরা ফাঁদ উদ্ধারে জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাঁদেরও দুটি স্মার্ট প্যাট্রল টিম রয়েছে।

‎এ দুই বিভাগীয় বন কর্মকর্তাই বাঘের বিপদ কমিয়ে আনতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া, নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো, টহল বাড়ানো ও স্থানীয়ভাবে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন।

‎‘হরিণের জন্য পাতা এসব ফাঁদ বাঘের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ৪ জানুয়ারি যে বাঘটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটা বনজীবীদের চোখে পড়ায় জানতে পেরেছিল বনবিভাগ,  না হলে জানতে পারতনা।
‎এমনকি হরিণ আটকা পড়লেও হয়তো জানতে পারতোনা বন বিভাগ।এসব কারনে প্রতিনিয়ত উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে’
‎হরিণের জন্য পাতা ফাঁদকে বাঘের জন্য অন্যতম হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে সরকারের কর্মপরিকল্পনা টাইগার অ্যাকশন প্ল্যানে। এতে বলা হয়েছে, অনেক বনজীবী আয়ের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে বনজ সম্পদ সংগ্রহের পাশাপাশি হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতেন। স্থানীয় বাজারে হরিণের মাংসের চাহিদা থাকায় হরিণ শিকার বাড়ছে।

‎জানতে চাইলে  প্রাণিবিদ্যা ও বাঘবিশেজ্ঞরা জানায় ‘হরিণের জন্য পাতা এসব ফাঁদ প্রতিনিয়ত বাঘের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪ জানুয়ারি যে বাঘটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটা বনজীবীদের চোখে পড়ায় বনবিভাগ জানতে পারে। না হলে ওই বাঘটির পরিনতি আরো খারাপ হতে পারতো।

‎২০২৩ সালে এক গবেষণায় হরিণের পর্যাপ্ত সংখ্যার উপস্থিতি  লক্ষ করা গেছে যাতে প্রতি সপ্তাহে বাঘের জন্য ৫০ বা ৬০ কেজি ওজনের একটি হরিণ প্রয়োজন হয়; কিন্তু এখন যে হারে হরিণ শিকারে ফাঁদ পাতা হচ্ছে, তাতে একটা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।