খুঁজুন
, ,

সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব দোষ স্বীকার কনস্টেবল ইমতিয়াজের:জড়িত দুই ইন্সপেক্টরসহ ১১ পুলিশ সদস্য

আবির হোসেন সান /কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব দোষ স্বীকার কনস্টেবল ইমতিয়াজের:জড়িত দুই ইন্সপেক্টরসহ ১১ পুলিশ সদস্য

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব’ ঘটনার তদন্তে অবশেষে মুখ খুলেছেন কক্সবাজার আদালতের এক বিচারকের গানম্যান কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন। টেলিগ্রাম নিউজের হাতে থাকা অকাট্য প্রমাণের সামনে সব সত্য উপস্থাপন করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। এরপর তা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তদন্ত কমিটির কাছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানার দুই ইন্সপেক্টরসহ ১০ পুলিশ সদস্য জড়িত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কমিটির কাছে এসব তথ্য জানিয়েছেন ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়া পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন। লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দিতে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে একজন এএসআই আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। সেখানে সিভিল পোশাকে বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, সিভিলে একজন এসআই, পুলিশ পোশাকে আরেকজন এসআই, তিনজন এএসআই, একজন পুরুষ কনস্টেবল এবং দুইজন মহিলা কনস্টেবল ছিলেন। আমার লাগেজ খুলেছিল একজন পাবলিক চেকার। সে চেইন খুলে ইয়াবা দেখার পর পুলিশ চেইন বন্ধ করে দিতে বলে। তারা ইয়াবাগুলো গুনেনি। পরে তারা সেগুলো কী করেছে আমি জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন এসআই সাদা কাগজে একটি সিজার লিস্ট তৈরি করেছিল। বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আমার জবানবন্দি নিয়েছিল। আমার কাছ থেকে জবানবন্দিতে স্বাক্ষর করানো হয়। সেখানে আলাদা আলাদা পেজ ছিল। পরে আমাকে এসব বিষয় কাউকে না জানানোর জন্য বলা হয় এবং তারাও আমার ক্ষতি করবে না বলে নিশ্চিত করে। এরপর কোনো একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার পর ভোরের দিকে আমাকে একটি গাড়িতে তুলে দেয়।’ কনস্টেবল ইমতিয়াজ বলেন, ‘চাকরি চলে যাওয়ার ভয়েই এতদিন কিছু স্বীকার করিনি। এছাড়া বাকলিয়া থানা পুলিশ আমাকে স্পষ্ট বলেছিল-কাউকে কিছু বললে বিপদ হবে।’

জানা গেছে, ৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে দেশ ট্রাভেলসের কক্সবাজার কলাতলী কাউন্টারে যায় পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ। সেখান থেকে ঢাকার একটি টিকিট কাটেন তিনি। তবে টিকিট কেটেছিলেন চকরিয়া থেকে ওঠার কথা বলে। কিন্তু তিনি উঠেছিলেন কলাতলি থেকেই। কারণ কক্সবাজার থেকে যেসব যাত্রী ওঠে, চেকপোস্টে তাদের প্রতি সন্দেহ থাকে। ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে দেশ ট্রাভেলসের গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৬৪২) কলাতলি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে। ইমতিয়াজ গাড়ির ই-১ আসনে ছিলেন। গাড়িতে বসেই তিনি পুলিশের আইডি কার্ডটি সামনের ডি-১ সিটে ঝুলিয়ে দেন। এতে গাড়ির যাত্রীরাও বুঝে যায় ইমতিয়াজ পুলিশ সদস্য।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য টেলিগ্রাম নিউজ কে জানিয়েছেন, ‘কনস্টেবল ইমতিয়াজ শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করছিল। তবে যুগান্তরের সরবরাহ করা অডিও ও তথ্য উপস্থাপন করার পর তিনি ভেঙে পড়েন এবং কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার পুরো ঘটনা খুলে বলেন।’

এদিকে ইয়াবা গায়েবের সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি পৃথক ‘মিস কেস’ নথি খুলেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদ। এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সিএমপির উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর বাইরেও সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, ‘ইয়াবা গায়েবের ঘটনায় আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ওই পুলিশ সদস্য ইয়াবাগুলো কার কাছ থেকে নিয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর অবস্থান কোথায়? সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।