খুঁজুন
, ,

ফরহাদ হোসেন আজাদের ভাইরাল ছবি-ভিডিও ‘এআই নয়’ দাবি দ্য ডিসেন্টের, পাল্টা দাবি বহাল প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরহাদ হোসেন আজাদের ভাইরাল ছবি-ভিডিও ‘এআই নয়’ দাবি দ্য ডিসেন্টের, পাল্টা দাবি বহাল প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির

 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভাইরাল ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জেলা বিএনপির নেতারা শুরু থেকেই এগুলোকে ‘এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি ও ভিডিও’ বলে দাবি করে আসছেন। তবে ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট তাদের প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য ডিসেন্ট জানায়, পঞ্চগড় ও ঢাকার একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এক নারীর ২০ সেকেন্ডের একটি শব্দহীন ভিডিও, পাঁচটি স্থিরচিত্র এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে যাচাই করেছে। তাদের দাবি, সংগৃহীত ভিডিও ও ছবিগুলোর রেজুলেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংস্করণের তুলনায় উন্নত ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগৃহীত সব ছবি ও ভিডিও একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হলেও কোথাও এগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট থেকে নারীর পরিচয় অনুসন্ধান

দ্য ডিসেন্ট জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের একটি স্ক্রিনশটে শাড়ি পরা এক নারীর ছবি এবং একটি বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দেখা যায়। ওই নম্বরটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা যায়, সেটির বিকাশ পারসোনাল অ্যাকাউন্ট এক অমুসলিম নারীর নামে নিবন্ধিত।

পরে ওই নারীর বিষয়ে অনুসন্ধান করে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে, তার বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের সেই গ্রামেই, যেখানে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের বাড়ি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই নারীর জন্ম ১৯৯৫ সালের জুন মাসে।

দ্য ডিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের পর এক নারী ফোন রিসিভ করেন এবং নিজের পরিচয় দেন, যা বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।

নিজের ছবি শনাক্ত করলেন নারী

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশটে থাকা শাড়ি পরা ছবিটি যাচাইয়ের জন্য ওই নারীর অনুমতি নিয়ে তার কাছে পাঠানো হলে তিনি ছবিটি নিজের বলে স্বীকার করেন। তবে তার ভাষ্য, ওই ছবি কীভাবে সেখানে এসেছে, তা তিনি জানেন না।

একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবি, ভিডিও কিংবা স্ক্রিনশট সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রীকে চেনেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একজন এমপিকে চিনবো না কেন।”

নিজের পরিচয় সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন এবং চাকরি খুঁজছেন। তবে বাসার ঠিকানা জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রতিবেশীদের দাবি

দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বরাতে বলা হয়, ওই নারীর বাবা মারা গেছেন। বর্তমানে তার মা ও এক ভাই রয়েছেন। ভাই এলাকায় অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন।

একজন অমুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, যিনি ওই নারীকে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করেন, দাবি করেন যে ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর ওই নারীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার পর প্রতিমন্ত্রীর ফোন

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ জুলাই রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৩২ মিনিট এবং পরে রাত ৯টা ৪৪ মিনিট থেকে ৯টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত দুই দফায় ওই নারীর সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথা হয়।

এর ১৩ মিনিট পর রাত ১০টা ২ মিনিটে প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে ০১৭০৭ সিরিজের একটি বাংলাদেশি নম্বর থেকে কল আসে, যেখানে নাম প্রদর্শিত হয় “FORHAD HOSSAIN AZAD”

প্রতিবেদনের দাবি, প্রতিবেদকের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর আগে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না এবং বিষয়টি নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার আগে অন্য কারও সঙ্গেও আলোচনা করা হয়নি।

পরদিন সকালে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রথমে কল রিসিভ হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানোর পর সেখান থেকে কল আসে।

প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল, এটি কি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নম্বর?

জবাবে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। আগের রাতের কলের প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, “আসেন, আমার দপ্তরে আসেন, চা খাই।”

পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি “ব্যস্ত আছি” বলে কল কেটে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ডিসেন্ট আরও দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন নম্বরের তালিকায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নামে ওই নম্বরটি উল্লেখ রয়েছে।

নম্বর দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

বুধবার দুপুরে আবারও ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হয়, আগের রাতে তার সঙ্গে কথা বলার ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। নম্বরটি তিনি দিয়েছেন কি না।

জবাবে তিনি বলেন, “না না ভাইয়া, আমি কেন নম্বর দিতে যাব। আর আমার একটা ছবি বা নম্বর কোথাও পাওয়া গেলে এই যুগে এত চিন্তিত হওয়ার তো কিছু নাই। আমি পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।”

মোবাইল কভার নিয়েও পর্যবেক্ষণ

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোর একটিতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে দেখা যায়। সেখানে ব্যবহৃত মোবাইলের কভারের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহৃত মোবাইল কভারের মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে থাকা কিছু ছবিরও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পৃথক কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জেলা বিএনপির নেতারা ধারাবাহিকভাবে এগুলোকে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট বলে দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে, দ্য ডিসেন্ট তাদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বলেছে, তারা এআই ব্যবহারের কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।