কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সরকারি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
কক্সবাজারে কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব, সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং ব্যয়বহুল বেসরকারি ডায়ালাইসিস নির্ভরতা কমানোর দাবিতে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি পূর্ণাঙ্গ কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, মানবিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, কক্সবাজারে দিন দিন কিডনি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ডায়ালাইসিস সুবিধা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে উচ্চ ব্যয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেক রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ব্যয় বহন করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, একটি সরকারি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হলে জেলার অসংখ্য কিডনি রোগী স্বল্প খরচে কিংবা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং জনস্বার্থ ও মানবিক অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি কামরুল হাসান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মন্নন, কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তৌহিদ বেলাল, সেভ দ্য কক্সবাজারের পরিচালক অধ্যাপক কবির ছিদ্দিকী, ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্সের অর্থ সম্পাদক জাকের হোসাইন, কক্সবাজার ব্লাড ডোনার’স সোসাইটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য ইমরান হোসাইন নবি, আস্থা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব কক্সবাজারের সভাপতি জানে আলম মিতুল, সাংবাদিক সৈয়দ আলম, ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্সের সদস্য রিয়াজ উদ্দিন, মনির আলম ও শাহানোয়াজ দিদার, রামু ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির কো-এডমিন আবু বক্কর সিদ্দীক রাহী, ব্লাড বক্স অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় সংবাদ সংস্থা কক্সবাজারের সভাপতি খোরশেদ আলম এবং হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহবুব কাওসার।
বক্তারা অবিলম্বে কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবক, সামাজিক সংগঠক, রক্তদাতা সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বার্থে এই মানবিক দাবির আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]