খুঁজুন
, ,

হাদি হত্যা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিআইডি

সাজিদ বিন বশির, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, ঢাকা
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
হাদি হত্যা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিআইডি

* শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, সব জানেন বলে দাবি মমতার
* মমতার এই বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সিআইডি
* বাংলাদেশ সরকার মমতার ওই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছে
* বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতে, বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক খেলা

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তা তদন্তের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির মতে, মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে—এমন যেকোনো তথ্য, বক্তব্য বা সূত্রই যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে।

তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ এটিকে ভারতের রাজনৈতিক কৌশল বা প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে আসছে যে ঘটনাটির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর সেই দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের শনাক্তকরণ, বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এসব দাবিতে সংগঠনটি নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কিছুদিন পর কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন নেতা তাঁকে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। মমতা ইঙ্গিত দেন যে তিনি পুরো ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবগত, তবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করতে চান না।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশে মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

মামলাটির তদন্ত বর্তমানে সিআইডির হাতে রয়েছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো তথ্যকে আগে থেকেই গ্রহণ বা বাতিল করা হচ্ছে না। বরং সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
সিআইডির মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

হাদি হত্যা মামলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি বর্তমানে ভারতে আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন। এছাড়া ফিলিপ সাংমা নামের আরেকজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে আসামিদের সীমান্ত অতিক্রমে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এসব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য মূলত ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকার মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক মহলের নেতারা মমতার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মতে, বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও এটি ইঙ্গিত দেয় যে ঘটনাটিকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করতে পারে।
তাদের দাবি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা রয়েছে, এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

এদিকে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মামলার বাদী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন। হাদির বোন মাসুমা হাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের কাউকে বাদী না করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরকে কেন মামলার বাদী করা হলো—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

মাসুমা হাদির মতে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তাঁদের পরিবার বিভিন্ন ধরনের চাপ ও জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তবে এতদিন পরিবারের স্বার্থে তিনি বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনেননি। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু মামলার বাদীপক্ষ সেই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলে আদালত পুনরায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে একাধিক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শরিফ ওসমান হাদি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।

তাঁর হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে মামলার তদন্ত, বিচার এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জনমনে এখনো ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিদ্যমান।

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তির দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত অপ্রতিমের বয়স প্রায় ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।

অপ্রিতমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম, including আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়ে কাজ করছে।

পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। উদ্ধার করা আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। নিহতের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার তার দাফন করা হয়েছে।

দ্রুত বিচার শেষ করার আশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে। এরপর বিচার বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ, পরে উদ্ধার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বজরা ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ‎‎স্থানীয় কৃষক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাহিদামত সার না পাওয়ায় কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ওই এলাকার দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে ডিলারের কাছে জমা দিলেও কৃষকরা সার পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর গাবেরতল বাজারের আব্দুল গফফারের কীটনাশক ও সারের দোকানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে দেখতে পান কয়েকজন কৃষক। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১ ঘণ্টা পর ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় দিন ওই কীটনাশকের দোকানে বসে আড্ডা দেই। গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই স্থানীয় কৃষকরা আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরে আশপাশের লোকজন উত্তেজনা দেখে কীটনাশকের দোকানে আমাকে বসিয়ে রেখে দোকান বন্ধ করে দেন। প্রায় ১ ঘন্টা পর পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।’
তার উপর কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিলাররা যখন সার বিতরণ করেন তখন আমরা সেখান থেকে বিষয়টি দেখাশুনা করে থাকি। অনেকে যথা সময়ে সার পান না। তাদের ধারণা আমার কারনেই তারা সার পাচ্ছে না। এ কারনে আমাকে দেখে ক্ষুব্ধ হন।’

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে সহকর্মীদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সার সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। অনেকে বিভিন্ন কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম আরিফ বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় কিছু স্থানীয় লোক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

আহনাফ হামিম, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি – দিতাম’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেল থেকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবার শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, ‘বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবার এ ঘটনায় শোকাহত।’

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশায়াতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ, বাবা-মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।’

ময়নাতদন্তের জন্য ইশায়াতের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা।